বিদেশে থাকা ছেলের স্ত্রীকে ঘিরে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন
- আপডেট সময় ০৮:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার,
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সাড়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বগুড়ার কাহালু উপজেলার শান্তা গ্রামের তরুণ রজ্জু মিয়া। প্রবাসজীবনের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া সঞ্চয়ই আজ তাঁর জীবনের বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ত্রী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি দামি মোবাইল ফোন আত্মসাতের অভিযোগ তুলে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন রজ্জু মিয়ার মা মোছা. সাহিদা বিবি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে শেরপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে মুঠোফোনের মাধ্যমে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বাগড়া হঠাৎপাড়া গ্রামের খাদিজা আক্তারের সঙ্গে রজ্জু মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর খাদিজা আক্তার মাঝে মধ্যে স্বামীর বাড়িতে এলেও পরবর্তীতে অন্যদের প্ররোচনায় তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রবাসে থাকা স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও একটি দামি মোবাইল ফোন নেন খাদিজা আক্তার। তবে এসব পাওয়ার পর গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরে টাকা-পয়সা ও মালামাল ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন সময়ে পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি গত ২৮ জুলাই কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের কয়েকজন রজ্জু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে খাদিজা আক্তারকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রবাসীর মা সাহিদা বিবি জানান, ছেলের কষ্টার্জিত উপার্জন হারিয়ে তাঁদের পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায়বিচারের আশায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











