চানখাঁরপুলে ৬ হত্যা: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় ১০:১২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬৭ বার পড়া হয়েছে
মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার,
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় অপর পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন— ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এ মামলার আট আসামির মধ্যে রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ হোসেনকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ওই থানার তিন কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় গ্রেপ্তার চার আসামি— আরশাদ হোসেন, সুজন, ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর চার আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি দ্বিতীয় রায়। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ২৫ মে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সেদিনই ট্রাইব্যুনাল হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চানখাঁরপুল এলাকায় আসামিরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালান। প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিও, ২টি অডিও, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৬টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়।
প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, একটি অডিও কলে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান পুলিশ কমান্ড সেন্টার থেকে চায়নিজ রাইফেল দিয়ে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরই আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ২৬ জন সাক্ষ্য দেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিনজন।











